করোনাজয়ী দুই চিকিৎসক করোনা চিকিৎসায় দেশে প্রথম প্লাজমা দিয়ে পথ দেখালেন 

0
164
করোনাজয়ী দুই চিকিৎসক করোনা চিকিৎসায় দেশে প্রথম প্লাজমা দিয়ে পথ দেখালেন 
দুই পাশে প্লাজমাদাতা চিকিৎসক ডা. দিলদার হোসেন বাদল ও ডা. রওনক জামিল পিয়াস, তাদের মাঝে প্লাজমা-সংক্রান্ত সরকারি কারিগরি উপ-কমিটির প্রধান ডা. এম এ খান

করোনাজয়ী দুই চিকিৎসক করোনা চিকিৎসায় দেশে প্রথম প্লাজমা দিয়ে পথ দেখালেন। করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্লাজমা (রক্তরস) সংগ্রহ শুরু হয়েছে। প্রথমেই প্লাজমা দিয়েছেন করোনাজয়ী দুই চিকিৎসক।

শনিবার (১৬ মে) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্লাজমা সংগ্রহের উদ্বোধনের পর ওই দুই চিকিৎসকের প্লাজমা নেয়া হয়।

করোনাজয়ী দুই চিকিৎসক হলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. দিলদার হোসেন বাদল ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের ডা. রওনক জামিল পিয়াস। অবশ্য মিটফোর্ডের ডা. হাছিবুল ইসলামও প্লাজমা দিতে আসেন, তবে তারটা নেয়া সম্ভব হয়নি।

প্লাজমা হলো রক্তের জলীয় অংশ। রক্তের তিন প্রকারের কণিকা বাদ দিলে যে বাকি অংশ থাকে, সেটাই রক্তরস। কোনো মেরুদণ্ডী প্রাণীর শরীরের রক্তের প্রায় ৫৫ শতাংশই হলো রক্তরস। সেরে ওঠা ব্যক্তির রক্তরস আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে দিয়ে চিকিৎসা দেয়ার এ প্রাচীন পদ্ধতি প্লাজমা থেরাপি নামে পরিচিত। করোনাভাইরাস চিকিৎসায়ও এই পদ্ধতি বিশ্বজুড়ে ভালো ফলাফল দিতে থাকায় বাংলাদেশেও তা যাত্রা শুরু করলো।

অধ্যাপক এম এ খান বলেন, আমরা আজ কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা দুজন চিকিৎসকের শরীর থেকে প্লাজমা নিয়েছি, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সপ্তাহে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা কোভিড রোগীদের ওপর তা প্রয়োগ করা হবে। তিনি জানান, একজন সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষ থেকে দুইজন আক্রান্ত মানুষকে প্লাজমা দেওয়া যাবে। তবে প্লাজমা থেরাপি কার্যক্রম চালিয়ে নিতে ডোনার পাওয়া এবং অর্থের ব্যবস্থা করা এই দুটো চ্যালেঞ্জ রয়েছে, জানান তিনি। 

 ‘সংগ্রহ করা প্লাজমা পরীক্ষা করে দেখা হবে এতে অ্যান্টিবডি কতটুকু আছে। পরে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে রোগীর শরীরে পুশ করতে পারবো। সাধারণ জনগণ যারা করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন, তারা যেন প্লাজমা দেয়ার জন্য এগিয়ে আসেন, সে আহ্বান জানাই আমরা।’

 তিনি আরো বলেন , শুরুতে ৪৫ জন রোগীকে এই প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হবে, বাকি ৪৫ জনকে নেওয়া হবে যাদের ওপর প্রয়োগ হবে না। এই দুই গ্রুপকে পর্যবেক্ষণে রেখে তাদের মধ্যকার পার্থক্যটা বোঝা যাবে।

রক্তের তরল হলুদাভ অংশকে প্লাজমা বা রক্তরস বলা হয়। রক্তের মধ্যে তিন ধরনের কণিকা ছাড়া বাকি অংশই রক্তরস আর রক্তের প্রায় ৫৫ শতাংশই রক্তরস। প্লাজমা থেরাপিতে শতভাগ সাফল্য আসবে না উল্লেখ করে চিকিৎসকরা বলছেন, তবে যেহেতু কোভিড-১৯ এর কোনও চিকিৎসা এখনও নেই আর প্লাজমা থেরাপির কোনও ক্ষতি নেই তাই পরীক্ষামূলকভাবে এটা দিতে সমস্যা নেই।

ঢামেক হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মাজহারুল হক তপন বলেন, ‘এমন না যে প্লাজমার চিকিৎসা পদ্ধতি চালু হয়েছে। এখন আমরা রিসার্চ করছি। কার শরীরে কতটুকু অ্যান্টিবডি আছে তা দেখা হবে। সেটা দেখে আমরা ব্লাড ট্রান্সফার করবো। একজনের শরীরে ১:১৬০ অ্যান্টিবডি থাকতে হবে। সবার প্রতি অনুরোধ, এটা যেন সঠিক মাত্রা ছাড়া প্রয়োগ না করে।’

করোনাজয়ী দুই চিকিৎসক অভিনন্দন এভাবে মানবতার জন্য এগিয়ে আসার জন্য।

করোনায় মৃতদের দাফন ও সৎকারে কচিপাতা ম্যাগাজিনের আলোকচিত্র সম্পাদক মহসিন আহমেদ

একটি রিপ্লাই দিন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.