১৯৬৩ সালে লাকোনিয়া জাহাজে আগুন এবং উদ্ধার কার্যক্রমে ক্যাপ্টেন ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম।ইঞ্জিনিয়ার শাফকাৎ আলম

0
107
TSMS Lakonia লাকোনিয়া জাহাজ
লাকোনিয়া জাহাজ

লাকোনিয়া জাহাজে আগুন এবং উদ্ধার কার্যক্রম এ ক্যাপ্টেন ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম

-ইঞ্জিনিয়ার শাফকাৎ আলম

ক্যাপ্টেন ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা এট। একুশে পদক প্রাপ্ত বংশীবাদক ক্যাপ্টেন ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় বিষয়টি উঠে আসে কচিপাতায়। তিনি

২২ ডিসেম্বর ১৯৬৩ সাল। গ্রীক বিনোদনতরী টিএসএমএস লাকোনিয়াতে আগুন লেগে ডুবে গিয়েছিল উত্তর মেডিরায়। হারিয়েছিল ১২৮টি জীবন। জাহাজটি তৈরি হয়েছিল নেদারল্যান্ডে। নাম ছিল এম.এস জোহান ভ্যান ওল্ডেনবার্নভেল্ট এবং এটা নিয়মিত ভ্রমণ করতো আমস্ট্রাডাম আর ইস্ট ইন্ডিয়ার মধ্যে।

এই জাহাজটি আবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সমরতরী হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছিল। পরে এটা ১৯৬২ সালে গ্রীসের জেনারেল ইস্টিম নেভিগেশন কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়।তখন নামকরণ হয় লাকোনিয়া। জাহাজটি ১৯৬৩ সালের এপ্রিলে সাউদাম্পটন থেকে ক্যানারী আইল্যান্ড পর্যন্ত এক সফল বিনোদনতরী হিসেবে যাত্রা শুরু করে। প্রথমবারের মত দীর্ঘ যাত্রার এটা ছিল প্রথম পর্যায়। ১৯ ডিসেম্বরের যাত্রায় ৬৪৬জন যাত্রী এবং ৩৭৬জন নাবিক নিয়ে এই তরী ১১ দিনের এক ক্রিসমাস বিনোদন ভ্রমণে বের হয়েছিল। ক্যাপ্টেন ছিলেন ম্যাথিউস জার্বিস। যাত্রার চতুর্থ দিন সন্ধ্যায় একজন স্টুয়ার্ড দেখলো যে, জাহাজের সেলুনে আগুন লেগেছে। সেলুন দপ্দপ্ করে জ্বলছে। আগুনের লেলিহান শিখা প্যাসেঞ্জার কেবিনগুলোর দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। জাহাজের বিপদ সংকেত বাজছে ভীষণ মৃদুলয়ে, যা অনেকেরই শুনতে পাবার কথা নয়।

টিএসএমএস লাকোনিয়া জাহাজ
লোকজন সরিয়ে ফেলার কাজটা কঠিন হয়ে পড়েছিল লাইফ বোটগুলোর এলোমেলো অবস্থার জন্য। তার উপর আবার কিছু লাইফবোট আগুনে পুড়ে গিয়েছে। কিছু যাত্রী অবশ্য সমুদ্রে নামতে পেরেছিল গ্যাং ওয়ে দিয়ে আর কিছু দড়ির মই বেয়ে। কাছাকাছি কয়েকটি জাহাজ বিপদ সংকেত পেয়ে এগিয়ে এসেছিল বলে অনেক মানুষের জীবন বেঁচেছিল।
পরে একটি অনুসন্ধান গ্রুপ বের করেছিল, আগুনটা লেগেছিল ভুল ইলেকট্রিক্যাল সংযোগের জন্য। তবে তারা তীব্র সমালোচনা করেছিল, যন্ত্রপাতির অযত্নের, নিয়মিত সতর্কতামূলক ড্রিল না করার এবং জাহাজের তদারকি ছিল নিম্মমানের।
এভাবেই উদ্ধার করা হয়েছিল জাহাজের যাত্রীদের  ছবি : লাইফস্টাইল ম্যাগজিন থেকে
এই জাহাজটিতে আগুন লাগার সময় ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম যেই জাহাজে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন সেই জাহাজটির নাম ছিল এস.এস. মেহেদি। সেটি কাছাকাছি ছিল এবং রেডিওতে বিপদ সংকেত আসে SOS (save our soul)। ওনাদের জাহাজ দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে যায়। ফলে তারা ২২টি জীবন রক্ষা করতে পেরেছিল। এর মাঝে ৪জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। এর আগে অন্যান্য জাহাজ এসে অধিকাংশ উদ্ধার কার্জ সমাধান করে।
এই উদ্ধারকাজটি ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের জীবনের অন্যতম একটি স্মরণীয় ঘটনা। উল্লেখ্য ওই জাহাজে এস এস মেহেদী (s.s mehedi) একমাত্র বাঙালি এবং সর্বকনিষ্ঠ অফিসার ছিলেন ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম। জাহাজের ক্যাপ্টেন ছিলেন এ ডব্লিউ এফ উইলসন ( AWF Willson) । জাহাজটি করাচি থেকে আমেরিকা যাচ্ছিল steel billet লোড করার জন্য। তখন তারা সংকেতটি পেয়ে উদ্ধারকাজের জন্য এগিয়ে যায়।

একটি রিপ্লাই দিন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.