বাল্য বিবাহ বিরোধী নাটিকা । সখির বিয়ে। মুহাম্মদ বরকত আলী

0
914

চরিত্রসমূহঃ
সখি [বয়সঃ ১৩ বছর]
সাজু [সখির ভাই, বয়সঃ ১১ বছর ]
জাহানারা [সখির মা, বয়সঃ ৩৫ বছর]
রহমত আলী [সখির বাবা, বয়সঃ ৪০বছর]
লাল্টু [ঘটক, বয়সঃ ৫০ বছর]
ফজু [বয়সঃ ২৪ বছর]
ফয়েজ মিঞা [ফজুর বাবা, বয়সঃ ৫৬বছর]
মাস্টার [বয়সঃ ৩৫বছর]
কমলা, কহিনুর [সখির বান্ধবী ]
ভোলা [ফয়েজ মিঞার চাকর ]
হামেদ [লোক ,বয়স : ৪৬ ]
মাতবর [বয়সঃ ৫৫ বছর ]

প্রথম দৃশ্য :
[মঞ্চে জাহানারা এক পাশে বসে রান্না করবে। সখি ও সাজু অন্য পাশে বই হাতে পড়বে] জাহানারা : সখি একটু এদিকে আয় তো মা।
সখি : আমি পড়ছি, তোমার ছেলেকে বলো।
জাহানারা: লেখাপড়া করলে কি একটু আধটু কাজ কাম করা যায় না? কত করে বললাম ভর্তি হতে হবে না, মেয়ে মানুষ এত পড়ে কি হবে? বাড়ির কাজকাম একটু আধটু শিখে রাখ। ভালো একটা ছেলে দেখে বিয়েটা দিতে পারলেই মিটে যায়।
কে শোনে কার কথা। ভর্তি হয়েই ছাড়ল।
সখি :  মা, তুমি সকালবেলা কি শুরু করলে বলোতো? আমাকে একটু শান্তিতে পড়তেও দিবে না?
জাহানারা : মেয়ে মানুষ পড়ে কি হবেটা শুনি? চাকরি করে আমাদের খাওয়াবি নাকি ?
সখি : তা কি করবো জানি না। তবে আমাদের আবেদ স্যার বলেছেন যে, পড়ালেখা শুধু চাকুরির জন্য না; পড়ালেখা করলে বুদ্ধি বাড়ে।
সাজু : মেয়ে মানুষের অত বুদ্ধি দিয়ে কি হবে? আমি ছেলে, পড়তে হয় আমি পড়ব।
সখি : এ্যাঁ .. কি আমার বুদ্ধিমান রে, এক ক্লাসে দু’ দু’ বার পড়ে আছে, আবার বুদ্ধির বড়াই করে। তোর মনে নেই আমি ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পেয়েছি। আবার ক্লাস এইটেও পাবো।
জাহানারা : তোরা আবার ঝগড়া শুরু করলি?

[মাঠ থেকে ফিরে রহমত আলীর প্রবেশ] রহমত আলী : মা সখি এক গ্লাস পানি নিয়ে আয় তো।
সাজু : দেখলিতো, বাবা এসেই তোকে হুকুম করলো?
[সখি পানির গ্লাস হাতে নিয়ে] সখি : বাবা আমাকে বেশি ভালোবাসে তাই ..।
রহমত আলী : তোরা কি সারা জীবন এভাবেই ঝগড়া করেই যাবি? বড় হয়েছিস, এখন ওগুলো ছাড়।
জাহানারা : সাজু, তুই বকবকানি বন্ধ করে স্কুলে যা, আর সখিকে আজ স্কুলে যেতে হবে না। বাড়ির কিছু কাজ আছে করতে হবে।
সখি : দেখেছো বাবা, মা শুধু শুধু আমার স্কুল কামাই করে দেয়।
রহমত আলী  দু’একদিন স্কুলে না গেলে কিচ্ছু হবে না।
[সকলের প্রস্থান]

দ্বিতীয় দৃশ্য
[মঞ্চে ফয়েজ, ভোলা]

ফয়েজ মিঞা : ভোলা, এই ভোলা। কোথায় যে গেলো।
[ভোলা দৌড়ে মঞ্চে উঠবে] ভোলা : এইতো আমি। ডাকছেন কর্তা?
ফয়েজ মিঞা : ডেকে তো পাওয়া যায় না, কোথায় থাকিস ?
ভোলা : কাকে ডাকছেন? কে কোথায় ছিলো ?
ফয়েজ মিঞা : এখনি ভুলে গেলি? যাগগে, কাউকেই ডাকছি না। ফজু কি করছে?
ভোলা : ঘুমুচ্ছে।
ফয়েজ মিঞা : এখনো ঘুমুচ্ছে! যা ডেকে নিয়ে আয়।
ভোলা : সেই কখন থেকে বলছেন ডেকে নিয়ে আয়, ডেকে নিয়ে আয়, কিন্তু কাকে ডেকে নিয়ে আসবো, সেটা তো বলছেন না কর্তা?
ফয়েজ মিঞা : আমার কর্মঠ ছেলে ফজুকে।
ভোলা : ও আচ্ছা, ভুলেই গেছি। এখনি ডেকে আসছি।
ফয়েজ মিঞা : থাক ডাকতে হবে না। মধ্যরাত পর্যন্ত তাস খেলে ছেলে আমার বড়ই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। বিরক্ত করাবার দরকার নেই। হয়তো বা ঘুমের মধ্যেও তাস খেলছে। ছেলেটা কে নিয়ে কিযে করি।
ভোলা : আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে কর্তা, বলবো ?
ফয়েজ মিঞা : বল বল তাড়াতাড়ি বল, তা নাহলে এখনি ভুলে যাবি।
ভোলা : এই যা ভুলে গেছি। আপনি আবার বেশি সময় নিয়ে ফেলেছেন।

[ভোলা মাথা চুলকিয়ে কিছুক্ষণ পর] ও হ্যাঁ, বলছিলাম কি ঘরে একটা বৌ নিয়ে আসেন, তাহলে দেখবেন সব ঠিক হয়ে যাবে।
ফয়েজ মিঞা : দুর হত ভাগা এই বয়সে আবার বিয়ে। মানুষে কি বলবে ?
ভোলা : আমি কি আপনার বিয়ের কথা বলেছি নাকি। ফজুর বিয়ের কথা বলছি।

[ভোলা মঞ্চের অন্য দিকে গিয়ে বলবে]

বুড়ো হুতুমের সখ কত, বিয়ে করবে।
ফয়েজ মিঞা : ভোলা এমন চিন্তা তোর মাথায় এল কি করে? আমি তো কখনো ভেবে দেখিনি। তাহলে আর দেরি কেন, ঘটককে খবরটা দিয়ে আয়।
ভোলা : ঘটককে কেন ? বিয়ে শাদির ব্যাপার নাকি ? কার বিয়ে?
ফয়েজ মিঞা : আরে ফজুর বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে হবে। যা ঘটককে বলে আয় আমি ডেকেছি।
ভোলা : ও আচ্ছা ফজুর বিয়ে। আমি মনে করলাম আমার বিয়ের জন্য…। বয়স তো কম হলো না, কেউ খেয়াল করলো না।

[দুজনেরই প্রস্থান ] তৃতীয় দৃশ্য
========
[ফয়েজ, ভোলা, ঘটক]

ফয়েজ মিঞা : এতদিন শুনে আসছি লাল্টু ঘটক বেশ ঘটকালি করে, এখন দেখছি সবই ভুল। তোমাকে দিয়ে আমার কোনো উপকার হলো না। কয়েক মাস ধরে বলছি একটা মেয়ে দেখ, তুমিতো বাপু কানেই তুলছো না।
ঘটক : কি যে বলেন কর্তা। আমি কি কম চেষ্টা করছি।
আসে পাশে বেশ খোঁজা খুঁজি করলাম। একটা মেয়ের খোঁজ
পেয়েছি, তবে– ।
ফয়েজ মিঞা : তবে কি ঘটক?
ঘটক : মেয়ের পরিবার অতি দরিদ্র।
ফয়েজ মিঞা : তাতে কি হয়েছে? আমার কি কম আছে ?
ভোলা : ঠিকই তো, কর্তার কি কম আছে?
ঘটক : তাহলে প্রস্তাবটা নিয়েই যায়?
ফয়েজ মিঞা : তাই যাউ। আগে তুমিই কথা বলে দেখো, তারপর না আমি যাব।
ঘটক : তাহলে উঠলাম। [উঠেও উঠবে না। হাতটা কচলাতে থাকবে।] ভোলা : ওঠেন না কেন ? তাড়াতাড়ি দেখেন।
ফয়েজ মিঞা : এই হলো আপনার সমস্যা। টাকা লাগবে বলবেন না ? এই নাও। আরও লাগলে আরও দেব। আর হ্যাঁ, বিয়েটা দিতে পারলেতো বড় অংকের বকশিস পাবে।

[ফয়েজের প্রস্থান] ভোলা : লাল্টু দাদা আমার একটা ব্যবস্থা হবে না ?
ঘটক : হবে, তবে– -।
ভোলা : তবে কি?
ঘটক : [টাকা দেখিয়ে] দিতে পারবিতো?
ভোলা : টাকা দিবো কেন ?
ঘটক : তোর বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে যেতে হবে না ?
ভোলা : আমার বিয়ে! তোমাকে বলেছি আমি বিয়ে করবো?
ঘটক : এই না বললি!
ভোলা : দুর আমি আবার তোমাকে কখন কি বললাম?
ঘটক : ও, তাহলে আমি বিয়ে করবো বলেছিলাম। আমার ভুল হয়েছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমাকে ক্ষমা কর।
ভোলা : আচ্ছা পা ধরতে হবে না, এমনিতেই ক্ষমা করে দিলাম।

[দুজনের প্রস্থান] চতুর্থ দৃশ্য

[মঞ্চে রহমত আলী, ও ঘটক]

রহমত আলী : তো বলুন ঘটক সাহেব হঠাৎ কি মনে করে আমার বাড়ি?
ঘটক : ঘটকের যা কাজ। বাড়িতে বিয়ের উপযুক্ত মেয়ে থাকলে ঘটক তো আসবেই।
রহমত আলী : বুঝলাম না। আমার বাড়িতে বিয়ের উপযুক্ত মেয়ে?
ঘটক : আরে মিয়া আপনার মেয়ে সখির কথা বলছিলাম।
রহমত আলী : কি যে বলেন ঘটক সাহেব, মেয়ে তো এখন ছোট। কেবল মাত্র সাত ক্লাসে পড়ে।
ঘটক : কি সাত ক্লাসে পড়ে ! এক, দুই…. সাত, সাত ক্লাস, আর আপনি বলছেন ছোট ? সব বাবা মায়ের কাছেই ছেলেমেয়ে ছোটই থাকে। হিসেব করে দেখেন তো মেয়ের বয়স কত হলো ?
রহমত আলী : এই বার তের হবে হয়তো।
ঘটক : তাহলে বোঝেন, মেয়ের বার তের বছর বয়স মানে কি চারটেখানি কথা? আর কয়েক বছর পর বিয়ে দিতে পারবেন
তো ? আরে মিয়া ভালো একটা সম্বন্ধ নিয়ে এসেছি। বুনিয়াদি বংশ, জমিজমা আছে বেশ। আট চালা বাড়ি, দুজোড়া লাঙ্গল বলদ, বাড়িতে দুগোলা ধান সব সময় থাকেই। মোকামে আড়ৎ আছে, একটাই ছেলে। আর কি চান ?
রহমত আলী : তা না হয় বুঝলাম। কিন্তু মেয়েটার লেখাপড়ার খুব সখ। তারপরও মাথা খুব ভালো। পাঁচক্লাসে বৃত্তি পেয়ে
পাস করেছে।
ঘটক : রাখো তোমার বৃত্তি, মেয়ে মানুষের আবার লেখাপড়া।
লেখাপড়া যতই করুক শেষ মেষ লোকের বাড়ির গোয়াল ঘর পরিষ্কার করা ছাড়া আর চুলোর ছাই তোলা ছাড়া উপায় আছে? আর শোনেন, মেয়ে একা একা স্কুলে যায় কখন কি হয়ে যায়..।

[ জাহানারার প্রবেশ ] জাহানারাকে আসতে দেখে ঘটক বলবে;
ঘটক : এই যে ভাবি, আপনিই বলুন তো ভালো একটা সম্বন্ধ নিয়ে এসেছি রহমত ভাই রাজিই হচ্ছে না।
জাহানারা : আমি আড়ালে সব শুনেছি। ঘটক ঠিকই বলেছে, কখন কি হয়ে যায় কে জানে। গরিব মানুষ বিয়েটা দিতে পারলেইে বাঁচি। ঘটক সাহেব আপনি ব্যবস্থা করেন।
রহমত আলী : এত তাড়া হুড়ো না করে একটু চিন্তা ভাবনা করি তারপর না হয়…।
ঘটক : ভাবি ঠিকই বলেছে। তাহলে ভাবি আগামি শুক্রবার ছেলের বাবাকে সাথে করে নিয়ে আসি ?
জাহানারা : আচ্ছা, সেটাই ভালো হবে।
[ ঘটকের প্রস্থান ]

রহমত আলী : মেয়েটা দেখতে দেখতে কখন যে বড় হয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি, তাই না জাহানারা ?
জাহানারা : বাবা মায়ের কাছে ছেলে মেয়েরা ছোটই থাকে। সম্বন্ধটা ভালো হলে দেরি করবো না।
রহমত আলী : দেখ যেটা ভালো মনে কর।
[ দুজনের প্রস্থান ]

পঞ্চম দৃশ্য
[রহমত আলী ও হামেদ, মাঠে যাওয়ার পথে দুজনের সাথে দেখা] হামেদ : কিগো রহমত এবার তোমার গড়ানের জমিতে ধান কেমন হল ?
রহমত আলী : আল্লাহ ভালোই দিয়েছে। এবার মনে করছি সব্জি করবো।
হামেদ : হ্যাঁ, ঐ জমিতে সব্জি ভালো হবে। যাগগে সে কথা, তোমার মেয়েতো দেখলাম বেশ ডাঙ্গর হয়েছে, বিয়ের
জন্য কিছু ভাবছো ?
রহমত আলী : একটা সম্ব^ন্ধ এসেছিল। দেখা যাক কত দূর কি হয়।

হামেদ : দেখ দেখ, তাড়াতাড়ি দেখ। মেয়েকে তো আর সারা জীবন ঘরে রাখা যাবে না।
রহমত আলী : মেয়েটার লেখাপড়া প্রতি খুব। বিয়ের কথা বললে খুব করে কান্নাকাটি করে।
হামেদ : কি যে বলো, মেয়ে মানুষের আবার লেখা পড়া। যত তাড়াতাড়ি পারা যায় ততোই ভালো।
রহমত আলী : সে কথাও ভাবনা আসছে গো। পরে যদি ভালো সম্বন্ধ না আসে, তখন আর এক জ্বালা।
হামেদ : তাহলে যাই গো। দেখ কি হয়।
[ দুজনের প্রস্থান ]

ষষ্ঠ দৃশ্য
[সখি, কমলা , কহিনুর স্কুল থেকে ফেরার সময়] কমলা : [সখিকে উদ্দেশ্য করে] স্যার বললেন পড়ালেখা করতে হলে স্বপ্ন থাকতে হয়। তোর কি স্বপ্ন? কি হতে চাস?
সখি : স্কুলের ম্যাডাম। গ্রামের মেয়েদের পড়ালেখা করাবো। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরকেও শিক্ষিত করতে হবে সেটা
বাবা মায়েদের বোঝাব।
কহিনুর : আমার ইচ্ছে ডাক্তার হব।
কমলা : কি, ডাক্তার ! সেতো অনেক খরচ। তোর বাবা পারবে?
সখি : খরচ তাতে কি হয়েছে ? স্যার বলেছে না, ইচ্ছা থাকলেই তোমরা তোমাদের স্বপ্ন পুরণ করতে পারবে। আগে ইচ্ছে শক্তি থাকতে হবে, তারপর সাধ্য মত স্বপ্ন পূরণের জন্য
পরিশ্রম করতে হবে। দেখবে কি ভাবে তোমার স্বপ্ন তোমাকে অবাক করে দেয়।
কমলা : আমার ইচ্ছে হাঁস, মুরগির, ছাগলের খামার করব। তাই বেশি লেখাপড়া করব না।
সখি : খামার করতে হলেও লেখাপড়া শিখতে হবে। লেখাপড়া না শিখলে তোর আশে পাশের মানুষ তোকে ঠকাবে।
কমলা : আচ্ছা ঠিক আছে তোরা তোদের ইচ্ছে পূরণ কর, আমার আপত্তি নেই। তোরা দুজনেই তাড়াতাড়ি আসবি। আমি লুডো নিয়ে বসে থাকব।
সখি : আচ্ছা যা তাহলে, আমরা আসছি।
[ সকলের প্রস্থান ]

সপ্তম দৃশ্য
[ফয়েজ , মঞ্চে থাকবে। ভোলা আর ফজু বাইরে অপেক্ষা করবে।] ফয়েজ মিঞা : ভোলা, এই ভোলা, কোথায় গেলি ?
ভোলা : [ ভোলা দৌড়ে উঠবে ] জ্বি কর্তা, এইতো আমি।
ফয়েজ মিঞা : পান দে।
ভোলা : [ভোলার হাতে পানের বাটা থাকবে।] এই নিন কর্তা।
ফয়েজ মিঞা : ঘটক বেটা সেই যে গেল আর এল না। খবর নিয়েছিস নাকি?
ভোলা : ঘটক! কোন ঘটক?
ফয়েজ মিঞা : আরে লাল্টু ঘটক? ফজুর বিয়ের জন্য মেয়ে দেখার কথা বলে গেল।
ভোলা : ও হ্যাঁ। কর্তা, ঘটকরা বেশিরভাগ চিটার হয়। মেয়ের বাড়ি গিয়ে বলে ছেলে খুব ভালো এই আছে সেই আছে। আবার ছেলের বাড়ি গিয়ে বলে, ল²ীমেয়ে, এমন মেয়ে দশগ্রামের মধ্যে একটাও পাওয়া যাবে না।
ফয়েজ মিঞা : যাকগে, আজকেই ঘটককে ডেকে পাঠা।
ভোলা : আচ্ছা কর্তা।

[ফজুর প্রবেশ] ফজু : বাবা কিছু টাকা লাগবে।
ফয়েজ মিঞা : এভাবে আর কত দিন? মাঠ ঘাট ব্যবসাটাও তো দেখতে পারিস। কত করে বললাম ব্যবসাটা একটু বুঝে নে। কিছুতেই শুনলি না।
ফজু : বাবা আমিতো তোমাকে বলেছি ওসব ব্যবসা আমার দ্বারা হবে না।
ফয়েজ মিঞা : তাহলে কোন কাজটা হবে শুনি? বন্ধুদের সাথে নেশা করা, রাত জেগে তাস খেলা?
ফজু : তুমি কি টাকাটা দেবে নাকি চলে যাব?
ফয়েজ মিঞা : [টাকা দিতে দিতে] এভাবে বসে খেলে শেষ হতে সময় লাগবে না। আমি না হয় যত দিন আছি সব দেখা শোনা করলাম। কিন্তু, যেদিন থাকবো না, সেই দিন বুঝবি।

[ফজুর প্রস্থান ] ভোলা : কর্তা পায়ে বেড়ি পড়লেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
ফয়েজ মিঞা : সব আমার দোষ। ওর মা মারা যাওয়ার পর ওর যা ইচ্ছে তাই করতে দিয়েছি। কোনো কাজে বাধা দিই নি। এখন বড় হয়েছে। নিজেটা তো বুঝেনিতে পারে। বিয়েটা দিয়ে দেখি, যদি কিছুটা বশে আনা যায়।

অষ্টম দৃশ্য
[রহমত আলী, ঘটক, ফয়েজ মিঞা বিয়ের আলাপ] ঘটক : তাহলে রহমত ভাই কাজের কথায় আসা যাক। এটা ছেলের বাপ ফয়েজ মিঞা। আপনাকে সব কিছুই তো বলেছি। তাহলে আর দেরি কেন, বিয়ের দিনটা ধার্য করাই ভালো। শুভ কাজে দেরি করতে নেই। কি বলেন কর্তা?
ফয়েজ মিঞা : শোনেন রহমত ভাই, ঘটক কি বলেছে না বলেছে জানি না, ঘটকদের স্বভাব একটু বাড়িয়েই বলা। ছেলে আমার ধার্মিক, কর্মিক। গ্রামের মধ্যে একটা ভালো ছেলে থাকতে হলে আমার ফজুই এক নাম্বারে থাকবে। আমার সমস্ত জমিজমা, রাখাল কৃষাণ সেই দেখা শোনা করে। বৌমা আমার মেয়ের মতই থাকবে। আপনি নিশ্চেন্তে থাকতে পারেন।

ঘটক : কর্তা ঠিকই বলেছেন।
রহমত আলী : তা সবই ঠিক আছে। আল্লাহ আপনাকে বেশ দিয়েছে। আমার তেমন কিছুই নেই। জমিজমা নেই, অন্যের জমিতে কিছুটা চাষ আবাদ করি। এক জোড়া লাঙ্গল বদল আছে। এই নিয়েই মোটা মুটি চলে যাচ্ছে। আপনার মত থাকলে আমার আপত্তি নেই।
ঘটক : তাহলে আর দেরি করা যায় না, দিন ক্ষণ ঠিক করাই ভালো।
রহমত আলী : দিনক্ষণ ঠিক করার আগে মেয়েটা দেখলে হয় না?
ফয়েজ মিঞা : বলছেন যখন, নিয়ে আসেন।
[সখিকে নিয়ে এসে সামনে বসানো হবে।] ফয়েজ মিঞা : তোমার নাম কি মা?
সখি : মোছাঃ সখি খাতুন।
ফয়েজ মিঞা : বাহ্, খুব সুন্দর নাম তো তোমার। কোন ক্লাসে পড়?
সখি : সপ্তম শ্রেণি।
ফয়েজ মিঞা : খুব ভালো। [কিছু টাকা হাতে ধরিয়ে] এটা নাও মা। তোমার মুখখানি দেখে প্রাণটা জুড়িয়ে গেল। এবার তুমি যেত পার।

[ সখির প্রস্থান। ] ঘটক : বলেছিলাম না, সোনার টুকরা মেয়ে। যেমনি রূপবতি, তেমনি গুণবতি।
ফয়েজ মিঞা : রহমত ভাই, আমি আর দেরি করতে চাই না লক্ষ্মী মেয়েটা আমার বাড়ি নিতে পারলেই আমি ধন্য।
রহমত আলী : আপনিই একটা দিন ধার্য করেন।
ঘটক : আগামি শুক্রবার শুভ কাজটা শেষ করি?
রহমত আলী : তাই হোক।
ফয়েজ মিঞা : [ঘটকের দিকে আড় চোখে তাকিয়ে] ঘটক..।
ঘটক : ও হ্যাঁ, যেটা বলে রাখা ভালো, দাবিদাওয়া তেমন কিছুই নেই। ছেলেকে একটা বাইসাইকেল, একটা হাত ঘড়ি দিলেই চলবে। যৌতুক মনে করবেন না। মনে করবেন জামাইকে উপহার দিলেন। তা না হলে জামায় অন্যদের কাছে লজ্জা পাবে না ।
রহমত আলী : আমি সব দিতেই রাজি তবে…….।
ঘটক : তবে আর কি রহমত ভাই?
রহমত আলী : আমার তো তেমন কিছু নেই। হালের গরু দুটো দিয়েই সংসার চলে। একটু ধীরে সুস্থে নিলে হয় না?
ফয়েজ মিঞা : আরে তাই দিয়ো মিয়া। আমি ছেলের বাপ বলেতো আর চামার না।
ঘটক : এই তো একখান খাঁটি কথা বলেছেন কর্তা। তাহলে আগামি শুক্রবার বিয়ের পাকা কথা রইল। কি বলেন রহমত
ভাই ?
রহমত আলী : আচ্ছা ঠিক আছে এ কথাই রইল।
ফয়েজ মিঞা : উঠি তাহলে।

[ ঘটক ও ফয়েজ মিঞার প্রস্থান ] [ঘটক আর ফয়েজের প্রস্থানের পর রহমত মঞ্চেই থাকবে। সখি ও জাহানারার প্রবেশ।] সখি : বাবা আমি এখন বিয়ে করবো না। আমি লেখাপড়া করতে চাই।
রহমত আলী : গরিব মানুষের বেশি লেখাপড়া শিখে কাজ নেই। বেশতো হয়েছে আবার কি? সাতক্লাস কি কম?
তারপরও যে দিনকাল পড়েছে তাতে করে বিয়েটা দিতে পারেই বাঁচি।
জাহানারা : তোর বাবা ঠিক কথাই বলেছে। আমরা কি তোর খারপ চাইবো বল ? গেরস্ত বাড়ি, সুখেই থাকবি।
সখি : বাবা, মা, আমাকে নিয়ে তোমাদের চিন্তা করতে হবে না। আমি নিজেকে লুকিয়েই রাখব। কোনো প্রকার মান সস্মান যাবে না তোমাদের। কথা দিলাম। যে দিন আমার চলা ফেরায় ভুল পাবে, সেদিন আমাকে বিয়ের কথা বলো। আমি সেদিন আর না করবো না।
রহমত আলী : আমি অত শত বুঝি না, বিয়ের দিন পাকা হয়ে গেছে। আগামি শুক্রবার বিয়ে।
[ কাঁদতে কাঁদতে সখির প্রস্থান। পিছু পিছু রহমত ও জাহানারার প্রস্থান। ]

নবম দৃশ্য
[সখি, কমলা, কহিনুর বিকেল বেলা আলাপ] কমলা : [সখির দিকে তাকিয়ে] কিরে আজ স্কুলে গেলি না কেন?
সখি : মনেহয় আমার আর স্কুলে যাওয়া হবে নারে।
কমলা : কেন, কি হয়েছে?
সখি : আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
কহিনুর : তোর বাবা মাকে বলিস নি তুই পড়তে চাস?
সখি : বাবা মায়ের কাছে মেয়েদের কথার কোনো মূল্য নেই রে। কতবার বলেছি তবুও…। এখন আমি বিয়ে করতে চাই না। লেখাপড়া করতে চাই। তোরা কিছু একটা কর। [কাঁদতে কাঁদতে] কমলা : চল্; রফিক স্যারকে জানাই।
কহিনুর : ঠিক বলেছিস, তাই চল।

দশম দৃশ্য
[মঞ্চে রহমত আলী থাকবে। কিছুক্ষণ পর মাস্টার, সখি, কমলা ও কহিনুরের প্রবেশ ] মাস্টার : আসসালামু আলাইকুম রহমত ভাই, কেমন আছেন?

রহমত আলী : ওয়ালাইকুম আসসালাম। মাস্টার সাহেব হঠাৎ আমার বাড়ি যে? বসেন, বসেন। সখি, কমলা, কহিনুর সবাই একসাথে কি ব্যাপার?
মাস্টার : রহমত ভাই একটা কথা শুনে আসলাম। শুনলাম নাকি সখির বিয়ে ঠিক করেছেন?
রহমত আলী : ঠিকই শুনেছেন। ভালো একটা সম্বন্ধ পেলাম তাই আর দেরি করলাম না।
মাস্টার : ভালো সম্বন্ধ, তা কেমন ভালো?
রহমত আলী : এই ধরুন জমিজমা আছে বিঘে দশেক। লাঙ্গল বলদ, মোকামে আড়ৎ। ছেলে কর্মিক, বনেয়দি বংশ, মেয়ে
বেশ সুখেই থাকবে। একজন গরিব মেয়ের বাবার এর থেকে আর কি চাই?
মাস্টার : জমিজমা বাড়ি ঘর থাকলেই কি ভালো হয়ে যায়? এর থেকে যে ভালো সম্বন্ধ আসবে না এরকি কোনো গ্যারান্টি আছে? তারপরও সখির বয়স কম। এত কম বয়সে বিয়ে দিলে নানা সমস্যা হবে। মেয়েদের কম করেও আঠারবছর আর ছেলেদের একুশবছর হলো বিয়ের উপযুক্ত বয়স।
রহমত আলী : আঠারবছর! কি যে বলেন।
কমলা : চাচা, সখি এখনো অনেক পড়তে চায়। এই বিয়েতে ওর ইচ্ছে নেই। বিয়েটা আপনি বন্ধ করে দিন।
রহমত আলী : এই যে তোমরা বার বার পড়ার কথা বলছো, আমি গরিব মানুষ এত খরচ করে পড়াতে পারব? তাই আজ হোক আর কাল হোক বিয়ে যখন দিতেই হবে তখন আর দেরি কেন?
মাস্টার : সখি তো বৃত্তির টাকা পায়, সেই টাকা দিয়েই ওর খরচ চালাবে। তারপরও সরকার মেয়েদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা
করেছে। ছেলেমেয়ে উভয়কে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে বই দিচ্ছে। এর পরেও বলছেন খরচ? এভাবে ওর মেধাকে শেষ
করবেন না। বিয়েটা বন্ধ করে দিন। ওর স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসুন। আশা করি বিয়েটা বন্ধ করে দেবেন।

[মাস্টার, কমলা, কহিনুরদের প্রস্থান। সখি ও রহমত থাকবে। জাহানারার প্রবেশ।] রহমত আলী : শেষ মেষ তুই মাস্টারকে ডেকে এনে আমাকে অপমান করলি?
সখি : [জাহানারাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদবে] মা, ওমা, আমি পড়তে চাই, আমি পড়তে চাই মা, আমি পড়তে চাই।
জাহানারা : মা রে, উপায় নেই। মেয়ে হয়ে জন্ম নিলে পরের বাড়ি যেতেই হবে।
সখি : মা, আমি মেয়ে বলে তোমাদের যদি এতই বোঝা হয়ে থাকি তাহলে আমি অন্যের বাড়ি কাজ করব তবুও আমি
লেখাপড়া করতে চাই। আমি মেয়ে বলে কি আমার স্বপ্নের কোনো মূল্য নেই?
জাহানারা : আচ্ছা ঠিক আছে পড়তে যখন চাইছিস তখন জামাইকে বলে তোর পড়ার ব্যবস্থা করে দেব।
রহমত আলী : এরপরও যদি তুই বিয়েতে রাজি না থাকিস, তাহলে তোদের রেখে আমরা দুজন অন্য কোথাও চলে যাব।
আমরা তোকে এত কষ্ট করে বড় করলাম আর আমাদের কথার কোনো দাম নেই তোর কাছে?
সখি : আমার বিয়ে দিয়ে তোমরা যদি এতই সুখ পাউ তাহলে তোমাদের ইচ্ছেই পুরণ হোক।

একাদশ দৃশ্য
[বিয়ের মঞ্চ। এক কোণায় বর সহ কয়েক জন, অন্য কোণায় কনে ও কয়েকজন। সামনে ঘটক, রহমত আলী, ফয়েজ মিঞা ও মাতবর আলোচনা করবে।] রহমত আলী : ঘটক সাহেব, বিয়ের কাজটা শুরু করলে হয় না?
ঘটক : হুম। দেখছি মৌলবী সাহেব এলেন কিনা।
ফয়েজ মিঞা : রহমত ভাই, চিন্তা করবেন না, আপনার মেয়ে আজ থেকে আমারও মেয়ে।

[মাস্টারের প্রবেশ] রহমত আলী : মাস্টার সাহেব যে, আসেন আসেন। আমি তো মনে করেছিলাম আমার উপর রাগ করে আসবেন না। এসেছেন খুব খুশি হলাম।
মাস্টার : রহমত ভাই এখনো সময় আছে বিয়েটা বন্ধ করেন। এটা বাল্যবিবাহ। মেয়েটার জীবন এভাবে নষ্ট করে দিবেন
না।
মাতবর : মাস্টার, গরিব মানুষ এত পড়িয়ে লাভ কি ?
মাস্টার : মাতবর চাচা, মানুষ পৃথীবিতে জ্ঞানী হয়ে জন্মায় না। তাকে এই পরিবেশ থেকেই শিক্ষা নিতে হয়। তাই যত পড়বে ততো তার বুদ্ধির বিকাশ ঘটবে। জীবনে চলার পথ সহজ হবে। তারপরও এত অল্প বয়সে বিয়ে দিলে শারীরিক ক্ষতি হবে।
মাতবর : এসব ভিত্তিহীন কথা। আমরা কত ছোটতে বিয়ে করেছি, কই কিছুই তো হয় নি। হওয়ার মধ্যে প্রথম সন্তানটা মারা গেছে। সবি আল্লাহ পাকের ইশারা।
রহমত আলী : আমার মেয়ে আমি বিয়ে দিব, তাতে আপনার এত মাথা ব্যথা কেন?
মাস্টার : সখীর উপর আপনার যেমন অধিকার আছে, তেমনি এই রাষ্ট্রেরও অধিকার আছে।
রহমত আলী : আচ্ছা আপনি এত বয়স বয়স করছেন না? এই দেখুন, মেয়ের আঠার বছর পূর্ণ হয়েগেছে। [জন্ম সনদটা সামনে ধরে।] মাস্টার : দেখাতে হবে না। কিছু টাকার বিনিময়ে আজকাল ক্লাস সেভেনে পড়–য়া মেয়ের বয়স তের থেকে কিভাবে আঠার হয় সেটা আমার জানা আছে।
ফয়েজ মিঞা : মাদবর সাহেব, এখানে স্বয়ং আপনি থাকতে একজন মাস্টার কিভাবে কথা বলে ?
মাতবর : আরে বাপু তুমি যাও তো আমি দেখছি।
ভোলা : মাস্টার মশাই, চুপচাপ বসলে বসেন, আর না হলে স্কুলে যান। ছেলে মেয়েদের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এখানে লেকচার দিতে হবে না।
ফয়েজ মিঞা : ঘটক বিয়েটা পড়ানো শেষ কর।
ঘটক : এই তো এখনি শুরু করবো।
[ঘটক আর ভোলা মঞ্চের অন্য এককোণায় দাঁড়িয়ে] ভোলা : হ্যাঁ গো আমারটা কবে হচ্ছে?
ঘটক : মনে হয় এ জনমে না।
ভোলা : কেন? আমার কি বয়স হয় নি?
ঘটক : বয়স হয়েছে, বুদ্ধি পাকেনি। ঐ যে বার বার ভুল করিস। এ জন্যই হবে না।
ভোলা : কি ভুল করি? আর কি বা হবে না?
ঘটক : বিয়ে।
ভোলা : কার বিয়ে?
ঘটক : তোর বিয়ে?
ভোলা : আমি কি বলেছি আমার বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে?
ঘটক : এই নাও ঠ্যালা। এই না বললি বিয়ে করবি?
ভোলা : দুর আমার বয়স হয়েছে নাকি। বিয়ের বয়স হলে কর্তা ঠিক বলতো।

[সকলের প্রস্থান] শেষ দৃশ্য
[মঞ্চের এক পাশে কাপড় টাঙ্গানো থাকবে। মাঝে মধ্যে সখির চিৎকার। অন্য পাশে জাহানারা, রহমত আলী ও ডাক্তার।] রহমত আলী : ডাক্তার বাবু …!
ডাক্তার : দেখুন, মেয়ের বয়স খুব কম। প্রচুর রক্ত লাগবে। এত অল্প বয়সে বাচ্চা নেওয়া আদৌ ঠিক হয় নি।
জাহানারা : ডাক্তার, আমার একমাত্র মেয়ে, যে ভাবেই হোক ওকে…।
ডাক্তার : আমি শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো। বাকিটা আল্লাহর উপর ভরসা।
[ডাক্তার কাপড় ঘেরা ঘরে প্রবেশ করল। ঘরের ভিতর থেকে সখির চিৎকার। কিছুক্ষণ পর নবজাত শিশুর কান্না। ডাক্তার
শিশুটি কলে করে বেরিয়ে এল।] জাহানারা : ডাক্তার বাবু আমার সখি?
ডাক্তার : সরি মাফ করবেন। আমরা সাধ্য মত চেষ্টা করেছি। এই নিন, একটা শিশু অকালে প্রাণ দিয়ে আরও একটা শিশুর
জন্ম দিয়ে গেছে।
জাহানারা : [কাঁদতে কাঁদতে বসে পড়বে।] মা সখি তুই আমাদের উপর অভিমান করে চলে গেলি মা। আমরা তোকে বাঁচাতে পারলাম না।
রহমত আলী : [হাউ মাউ করে কেঁদে] মা মারে তোর বড় সখ ছিলো লেখাপড়া করার। তোর কোনো কথাই আমরা শুনলাম না। মাস্টার মশাইকে পর্যন্ত অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছি। তোকে আমরাই মেরে ফেললাম। আমাদের মাফ করে দিস মা, আমাদের মাফ করে দিস।
জাহানারা : মা’রে আমাদের ভুলে তোর ইচ্ছেগুলো পূরণ হলো না। তোর রেখে যাওয়া মেয়েকে দিয়েই তোর ইচ্ছেগুলো
পূরণ করবোই।

[কাঁদতে কাঁদতে বসে পড়বে।] [মঞ্চের বাইরে থেকে আওয়াজ ভেসে আসবে।] হে বাংলার মানুষেরা তোমরা আর এমন ভুল কর না। আর কোনো সখির অকাল মৃত্যু দেখতে চাই না। সখিদের মত মেয়েদেরও স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে, আছে তাদের স্বপ্ন পূরণের অধিকার। বাংলার সখিদের বাঁচতে, দাও বাঁচতে
দাও।

একটি রিপ্লাই দিন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.