তুলি ও টুসীর বিড়ম্বনা

0
651
তুলি ও টুসী
তুলি ও টুসী

পরন্ত বিকেলে তুলি আর টুসী দুই বোন খেলা করছিল ওদের বাগানে। হঠাৎ বড় বোন তুলি চিৎকার করে বলে- এই টুসী দেখ দেখ কে এসেছে। টুসি পিছন ফিরে তাকায় এবং দেখামাত্র চিৎকার করে বলে ওঠে- আরে নানু ভাইয়া এসেছেন। এর মধ্যেই দুই বোন নানু ভাইকে জড়িয়ে ধরে। তুলি পড়ে ক্লাস ফাইভে আর টুসী ক্লাস টুতে।

নানু ভাইয়াও এতদিন পর দুই নাতনিকে পেয়ে একেবারে আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলেন, পেছনে কে আসছে দেখ। একসাথে দুই বোন পিছনে ফিরে তাকায় এবং যা দেখে তাতে অবাক চোখে নানু ভাইয়ার দিকে দুই বোন এক সাথে তাকায় এবং নানু ভাই বলেন-

শুধু গরু নয়, গরু নয়। সাথে গরুর বাছুর ও একজন রাখালও এনেছি। এটা হলে তোমার  নানুমণির উপহার, তোমাদের জন্য। তোমার নানুমণি দিনরাত বলেন তুলি, টুসীরা কোথায় একটু খাঁটি দুধ পাবে, যা দিনকাল পড়েছে শুধু ভেজাল আর ভেজাল।

বাইরে হৈচৈ শুনে ওদের মা ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। অনেক দিন পর বাবাকে দেখে ওদের মাও কম খুশি হন না। সালাম করতে করতে বলেন- আব্বা আপনার শরীর ভাল তো? আসুন ঘরে আসুন। বাইরে দাঁড়িয়ে কেন? তারপর ঘরে চা নাশতা খেতে বলেন।

শোন মা মীনা, তোর মাকে তো জানিস। খাঁটি দুধ করে সে প্রায় অস্থির হয়ে পড়েছে। তাছাড়া এখন তোরা নিজের বাড়ি করেছিস। বেশ কিছুটা খালি জায়গাও আছে। তাই তুলি আর টুসীর জন্য এই ব্যবস্থা- হ্যাঁ ভাল কথা। ওই যে কাদের। ছেলেটার মা বড় দুঃখী। গত দুই মাস  হলো ওর বাবা মারা গেছে, তাই ওকে গরুটার দেখাশোনা করার জন্য তোর মা সাথে দিলেন।

তুলির আম্মু বলেন, খুব ভাল করেছেন আব্বা, যা অসুবিধা এখনতো কাজের লোক পাওয়াই যায় না। শুধু গরুর কাজ নয় শিখিয়ে নিলে অন্যসব কাজও করতে পারবে। এর মধ্যে ওদের বাবা এলেন অফিস থেকে। বাসায় ঢুকেই তুলি-টুসীর কাছে সংবাদ পায় কে এসেছেন, আরো অনেক খবর।

তারপর শ্বশুরের সাথে দেখা করেন এবং একসাথে চা পর্ব শেষ করেন।

বেশ কিছুদিন ওদের নানু ভাই থেকে দেশের বাড়ি চলে যান।

তুলি টুসীও গরু-বাছুরটিকে নিয়ে বেশ মজাই পায়। গরুটি যখন ওর বাছুরটিকে আদর করে জিভ দিয়ে। ওদের দেখতে খুব ভাল লাগে। ওরা দুই বোন বাছুরটিকে যেন কেমন ভালবেসে ফেলে। আদর করে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। একদিন টুসী বলে তুলি আপু চল না আমরা বাছুরটির একটা সুন্দর নাম  দেই।

লেখক: আকতারী বেগম ডলি

একটি রিপ্লাই দিন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.